ফোর্বস ম্যাগাজিনের জন্য সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫০ টি স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ভ্রমন বিশেষজ্ঞ লরা বেগলি ব্লুম। ২০১৯ সালে বিগ সেভেন ট্রাভেল ওয়েবসাইট অবলম্বনে ব্লুমের লিখিত এই প্রতিবেদনটি অসংখ্য ভ্রমনপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রমন মানে শুধু কতগুলো ফোটো তোলাতুলি নয় এরকম মনে করা লোকেদের অনেকেই ব্লুমের তালিকা দেখে নিজ-নিজ বাজেট মোতাবেক বছর ভ্রমন তালিকা প্রস্তুত করেন। ব্লুমের উল্লেখিত স্থানগুলোর উপরে অনলাইন অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করে জীবনজয়ী টিম। মোট ১০ টি পর্বে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে।
পর্ব: ছয়
২৬. সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। ছোট এই নগর রাষ্ট্র মালাক্কা প্রণালির পূর্ব প্রান্তে এবং বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এই দেশের উত্তরে রয়েছে মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুর রং বেরঙের বিল্ডিং, ফিউচারিস্টিক ব্রিজ, আর ক্লাউড ফরেস্টের জন্য দুনিয়া বিখ্যাত।
ক্লাউড ফরেস্ট হচ্ছে কাচঘেরা এক বিশাল উদ্যান। এতে শীতল ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। প্রায় ১১৫ মিটার উঁচু জলপ্রপাত, পাহাড়ি বাগান, অর্কিড, ফার্ন, কুয়াশামোড়া পথ মিলে এই কৃত্রিম বন সবার জন্য মনলোভা এক আকর্ষণ।
কখনো সময় হলে ঘুরে আসতে পারেন সিঙ্গাপুর। আপনার সময় বৃথা যাবে না। সিঙ্গাপুর ছোট এক জেলেপল্লী থেকে পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশে পরিনত হয়েছে। সিঙ্গাপুর আপনার জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে। মানুষের শৃঙ্খলা মেনে চলা, শক্তিশালী আইনকানুন আপনাকে অন্যরকম একটা অনুভূতি দিবে।
২৭. লন্ডন, ইংল্যান্ড
লন্ডনের ছোট ছোট পিংক কালারের রেস্টুরেন্টগুলো চমৎকার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফিউচারিস্টিক টয়লেটগুলো আপনার নজর কাড়বেই। লন্ডনের স্কাইলাইন হৃদয় জুড়ানো! লন্ডনের যাদুঘর, লাল বক্সের টেলিফোন বুথ, বিগ বেন আর গ্যালারিগুলো! এক কথায় আপনাকে শৈল্পিক জগতে নিয়ে যাবে। আবেশ থেকে যাবে অনেক দিন। লন্ডন শহর সবসময়ই আমার পছন্দের। লন্ডন মাল্টিকালচারাল নগরী হিসেবে পুরো পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছে। ঐতিহ্য, স্থাপনা, অনেকগুলো মিউজিয়ার, প্রকৃতি মিলিয়ে লন্ডন মোটামুটি দেখে শেষ করতে চাইলে কয়েক সপ্তাহে হবে না; কয়েক মাস লেগে যাবে।
২৮. রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল
সাম্বা নাচের ভূমিতে আপনাকে স্বাগতম। ব্রাজিল শুধু ফুটবল নয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ভরপুর এক দেশ। আইকনিক শহরগুলো। মিষ্টি পর্তুগিজ ভাষা আপনাকে ভুলিয়ে রাখবে নিশ্চিত। যিশু খ্রিস্টের দু হাত প্রসারিত ক্রাইস্ট দ্যা রেডিমার আপনার অপেক্ষায়! পাহাড় আর নদী
বিধৌত আমাজনের শহর আপনাকে হাতছানি দিয়ে বারবার ডাকবে। দৃষ্টিনন্দন ভূপ্রকৃতি ব্রাজিলিয়ান জীবনের এক মহান চিত্র। একদিকে আধুনিক শহুরে জীবন। অন্য দিকে প্রকৃতির সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়া!
২৯. পেট্রা, জর্ডান
দক্ষিণ জর্ডানের প্রাচীন নাবাতীয় নগরী পেট্রা সুন্দর লালচে পাথর ও খাড়া গিরিখাত দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই বিস্ময়কর স্থাপত্য নিঃসন্দেহে জর্ডানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ পর্যটন আকর্ষণ। পেট্রা শুধু জর্ডানের নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক এবং বিস্ময়কর পর্যটনকেন্দ্র। পাথরের পাহাড় খোদাই করে নির্মিত এর মন্দির ও সমাধিগুলো এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে "আল-খাজনেহ" বা ট্রেজারি এবং "মনাস্ট্রি" দর্শকদের মুগ্ধ করে। ধারণা করা হতো, "আল-খাজনেহ" তে নাবাতিয়ানরা তাদের গুপ্তধন লুকিয়ে রেখে গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এটি ছিলো নাবাতিয়ান রাজপরিবারের সমাধি। পেট্রায় সূর্যাস্তের সময় লালচে পাথরের প্রতিফলিত রঙ এক জাদুকরী দৃশ্য তৈরি করে। ইতিহাসপ্রেমী ও অভিযাত্রীদের জন্য পেট্রা এক স্বপ্নের স্থান।
৩০. হংকং
আকাশছোঁয়া অট্টালিকা ও বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য পরিচিত হংকং। অনেকের কাছে হংকং ইট-সিমেন্টের জঙ্গল ছাড়া কিছু নয়। এই ভাবনাটা ভুল। হংকংয়ের চল্লিশ শতাংশ ভূমি কান্ট্রি পার্ক এবং প্রাকৃতিক এলাকা হিসাবে সংরক্ষিত আছে। রঙিন খেলার মাঠ ও ভবিষ্যতের শহরের মতো অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলো হংকংকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
আসলে হংকং শুধু আধুনিক শহরের ঝলমলে আলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। ভিক্টোরিয়া হারবারের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশছোঁয়া বিল্ডিংগুলোর আলোকসজ্জা উপভোগ করা এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। শহরজুড়ে অসংখ্য স্ট্রিট ফুড স্টল, যেখানে চাইনিজ, ক্যান্টোনিজ ও আন্তর্জাতিক খাবারের স্বাদ পাওয়া যায়। ডিজনিল্যান্ড ও ওশান পার্ক পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর দারুণ জায়গা। আর যদি কেউ প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাহলে লান্তাও দ্বীপের সবুজ পাহাড় বা ড্রাগনস ব্যাক ট্রেইল নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করবে। হংকং এমন একটি গন্তব্য, যেখানে আধুনিকতা, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতি একসাথে হাত ধরাধরি করে চলে।
(এখানে পড়ুন: বাংলায় বতুতা)